সুস্থ্য থাকার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করার দরকার কী?

সুস্থ্য থাকার জন্য

আমরা সকলেই জানি যে পানির ওপর নাম হচ্ছে জীবন। তবে পানি কেবল জীবন বাঁচাতেই সহায়তা করে না, এর অনেকগুলি সুবিধাও রয়েছে। শরীরের ওজন কমাতে পানি খুব কার্যকর, তবে বেশি পরিমাণে পানি পান করলে ক্ষতি হতে পারে। আপনার স্বাস্থ্যে ভালো রাখার জন্য প্রতিদিন কত লিটার পানি পান করতে হবে তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন। তিনি আপনাকে প্রতিদিন সঠিক পরিমাণে পানি পান করতে সহায়তা করবে।

কী ধরণের সমস্যায় শরীরে পানির অভাব হতে পারে

আমরা সবাই জানি যে আমাদের শরীরের ৭০ শতাংশ পানি দ্বারা চালিত। কিন্তু আমাদের দেহ বেশি দিন পানি সঞ্চয় করতে পারে না। কারণ ত্বক, ফুসফুস, অন্ত্র এবং কিডনির মাধ্যমে প্রতিদিন আড়াই থেকে আড়াই লিটার পানি আমাদের শরীর থেকে নির্গত হয়। শরীরে যদি পানির ঘাটতি দেখা দেয় তাহলে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, শুষ্ক ত্বক, ব্যাঘাত, ঘন ঘন প্রস্রাব ইত্যাদির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই এই পানির চাহিদা মেটাতে আমাদের সকলকে সঠিক নিয়ম মেনে চলতে হবে।

যেসব রোগীদের অতিরিক্ত পানি পান করা উচিত নয়

উচ্চ রক্তচাপ এবং খুব দুর্বল হার্টের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পানি কম খাওয়া উচিত। এবং যাদের শরীরের বিভিন্ন টিস্যুতে পানি পেয়েছেন তারা কম পানি খাবেন। বার্লিনের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা: মাইকেল বাসমান বলেছেন, তাদের উচিত একজন বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করা এবং সুস্থ্য থাকার জন্য নিয়ম অনুসারে জল পান করা।

পরিষ্কার পানি শরীরকে স্বাস্থ্যকর ও সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করার জন্য আমাদের সকলের পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করা দরকার। পানির কার্যকারিতা কেবল তৃষ্ণা নিবারণই নয়, এর অনেকগুলি সুবিধাও রয়েছে। পরিষ্কার ও জীবানুমুক্ত পানি শরীরকে সুস্থ ও সচল রাখতে সহায়তা করে। পানি অ্যালকোহল এবং ক্যালোরিবিহীন তরল খাবার যা আমাদের দেহের ক্ষতি করে না এবং সহজে হজম হতে পারে। প্রস্রাবের মাধ্যমে পানি আমাদের দেহ থেকে ক্ষতিকারক পদার্থগুলি অপসারণ করে যাতে আমরা বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা পেতে পারি

পানি শরীরের অতিরিক্ত ওজন হ্রাস করতে সহায়তা করে

বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বলেছেন যে, অতিরিক্ত ওজন এবং স্থূলতায় ভোগা লোকেরা খাওয়ার আগে আধা লিটার পানি পান করা উচিত। কারণ পানি পান করলে আমাদের অতিরিক্ত খাবার খেতে বাধা দেয়। এই নিয়মটি মেনে চললে প্রতি সপ্তাহে ১ কেজি পর্যন্ত ওজন হ্রাস হতে পারে। প্রতিদিন সঠিকভাবে পানি পান করলে শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমে যায়। পরিমাণমতো পানি পান করলে আপনার স্বাস্থ্য থাকবে সুন্দর এবং কোমল।

গ্রীষ্মে শরীর শীতল ও শীতে গরম রাখতে পানি পান করুন

এটি শুনে আপনি অবাক হতে পারেন, তবে আমাদের দেহের তাপমাত্রা বজায় রাখতে পানির ভূমিকা অবশ্যই অপরিসীম। আমাদের দেহের তাপমাত্রা বজায় রাখতে শরীরের অভ্যন্তরে যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে থাকে তাদের সঠিকভাবে কাজ করতে প্রচুর পরিমাণে পানি প্রয়োজন। অতিরিক্ত গরমে ঘামের মাধ্যমে আমাদের শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে পানি বেরিয়ে যায়। শরীর তখন দুর্বল ও নিস্তেজ এবং গরম হয়ে যায়। সেই সময় আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা উচিত কারণ এটি শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে দেয় এবং দেহের পানির চাহিদা মেটাবে।

শীতে আমাদের ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়। এর কারণ আমরা শীতকালে অনেক কম পরিমানে পানি পান করি আর তাই শরীরে পানির পরিমান হ্রাস হয়ে আমাদের অনেক বেশি শীত অনুভূত হয়। কারণ দেহের তাপমাত্রা বজায় রাখতে পানির ভূমিকা অনেক বেশি। সঠিক পরিমানে পানি পানের কারণে শরীরে রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলি যদি ঠিকঠাকভাবে চলতে থাকে তবে শরীরে শীত কম অনুভূত হবে এবং ত্বকের শুষ্কতা এবং রুক্ষতা হ্রাস পাবে। শীতকালে সঠিকজ পরিমানে পানি পানের কারণে ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সুতরাং পানি গরম করে হলেও আপনাকে প্রতিদিন যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

সফট ড্রিঙ্কস নয়, সরল পানি পান করুন

কোমল পানীয় পান করা আপনার স্বাস্থ্যের পক্ষে কখনই ভালো নয়। এটি কিডনি এবং লিভারকে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এই সফট ড্রিংসগুলোতে ক্যালোরি বেশি এবং এনার্জি ড্রিংসগুলোতে অ্যালকোহলের পরিমাণ বেশি। যা আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকারক তাই আমাদের সর্বদা সাধারণ পানি পান করা উচিত। তাহলে শরীর সুস্থ্য ও স্বাস্থ্যকর রাখা সম্ভব হবে।

তাই ভ্রমণ বা অন্য কোথাও যাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি আপনার সাথে রাখুন। প্রতিদিন পরিস্কার ও জীবানুমুক্ত পানি পান করুন এবং সুস্থ ও সবল থাকুন।

রেফারেন্সঃ

bbc.com

banglanews24.com

bangla.bdnews24.com

এই ওয়েবসাইটে আপনি পাবেন সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় বিভিন্ন ধরনের জানা ও অজানা সকল তথ্য। যে তথ্যগুলো আপনাকে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় অনেক ধরনের সাহায্য করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Previous Story

ভাজা মুরগির চারটি সুস্বাদু রেসিপি কিভাবে তৈরি করবেন জেনে নিন

Next Story

খাদ্য বিষক্রিয়ার কারণে আমাদের কী ধরণের সমস্যা হতে পারে?