কিডনি রোগ এর প্রধান লক্ষণগুলো জেনে নিন

কিডনি রোগের

একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এমনকি আমেরিকার মতো উন্নত দেশেও আড়াই কোটিরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক কিডনি রোগ নিয়ে বেঁচে আছে। এবং ভীতিকর বিষয় হল, মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ জানে তাদের কিডনির সমস্যা আছে।

আমাদের দেশে কিডনি রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। বিবিসির ২০১৭ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুটি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের জরিপ অনুযায়ী, আমাদের দেশে প্রতি সাত জনের মধ্যে একজন কিডনি রোগে ভুগছেন।

কিডনি রোগ এতটাই মারাত্মক যে এটি কোন লক্ষণ বা উপসর্গ ছাড়াই খুব ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে। কখনও কখনও একজন রোগীর কোনো উপসর্গ বুঝে ওঠার আগেই তার কিডনির ৫০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তাই কিডনি রোগের নীরব লক্ষণগুলো জানা জরুরি। কিডনির বড় সমস্যার কয়েকটি নীরব লক্ষণ জেনে নিন। আপনি যদি এই লক্ষণগুলি দেখতে পান, তাহলে আপনাকে অবিলম্বে চিকিৎসা সহায়তা নিতে হবে।

শক্তি হ্রাস, ক্লান্ত বোধ করা

কিডনির কর্মক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে গেলে রক্তে বর্জ্য পদার্থ হিসেবে টক্সিন উৎপন্ন হয়। এটি আপনাকে দুর্বল এবং ক্লান্ত বোধ করে এবং কোন কিছুর উপর ফোকাস করা কঠিন করে তোলে। আরেকটি জটিলতা হলো রক্তাল্পতা। রক্তাল্পতা দুর্বলতা বা ক্লান্তির কারণ হতে পারে।

ঘুমাতে সমস্যা হচ্ছে

যখন কিডনি রক্তকে পরিশুদ্ধ করতে অক্ষম হয়, তখন রক্তে টক্সিন থাকে কারণ সেগুলো মূত্র থেকে বের হতে পারে না। যা ঘুমের সমস্যা সৃষ্টি করে। স্থূলতা এবং দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের মধ্যে একটি যোগসূত্র রয়েছে। এবং অনিদ্রা দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের একটি সাধারণ লক্ষণ।

ত্বকে অস্বাভাবিক ফুসকুড়ি বা চুলকানি

শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ এবং অতিরিক্ত তরল অপসারণ করে কিডনি খনিজ লবণের ভারসাম্য বজায় রাখে। যখন কিডনি রক্তে পুষ্টি এবং খনিজ লবণের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে না, তখন আপনার ত্বক শুষ্ক এবং ফাটা হয়ে যেতে পারে, যা কিডনি রোগের সবচেয়ে বড় নীরব লক্ষণগুলির মধ্যে একটি। তদুপরি, যখন কিডনি অকার্যকর হয়ে যায়, তখন রক্তে বর্জ্য পদার্থ বাড়তে থাকে। এটি ত্বকে চুলকানি এবং ফুসকুড়ি সৃষ্টি করতে পারে, যা সাময়িক চিকিৎসার মাধ্যমে কিছুটা উপশম করা যায়।

মুখে রুচি কমে যাওয়া

একটি সুস্থ কিডনি সাধারণত শরীরের ভিতরে রক্তকণিকা ধরে রাখে এবং রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ প্রস্রাব হিসাবে বের করে দেয়। যখন কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন রক্ত প্রবাহে টক্সিন তৈরি হয়, দুর্গন্ধ এবং বিস্বাদ সৃষ্টি করে। এছাড়াও, জিহ্বা ভারী হয়ে যায় এবং কিছু রোগী আগের মত মাংসের স্বাদ পায় না।

বমি বমি ভাব বা বমি

কিডনির অকার্যকর হলে রক্তে অতিরিক্ত বর্জ্যের কারণে বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে। বমি বমি ভাব আপনার ক্ষুধামন্দা সৃষ্টি করতে পারে। যদি এটি দীর্ঘ সময়ের জন্য হয় তবে আপনার অস্বাভাবিকভাবে শরীরের ওজন কমতে থাকবে।

অযথা প্রস্রাব করার তাড়না অনুভব করা

কিডনি রোগের একটি প্রধান লক্ষণ হল প্রস্রাবের সময়সূচীতে পরিবর্তন। যদি আপনার কিডনির সমস্যা থাকে, আপনি বেশি অথবা কম প্রস্রাব করেন। কিছু লোকের মধ্যে লক্ষণ হিসাবে দেখা যায়, প্রস্রাব সামান্য হয়। আবার কিছু লোকের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি প্রস্রাব হয়। অনেকেই প্রস্রাবের অস্বাভাবিক সময়সূচী জানিয়েছেন, বিশেষ করে রাতে।

প্রস্রাবে পরিবর্তন

কম -বেশি প্রস্রাবের লক্ষণ ছাড়াও, প্রস্রাবের কিছু পরিবর্তন নিজেই লক্ষণীয়। যেমন

  • প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া
  • স্বাভাবিকের চেয়ে প্রস্রাবের রঙ গাঢ় বা হালকা হওয়া
  • প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা বা বুদবুদ

কিডনি নষ্ট হয়ে গেলে রক্তের কোষ বের হতে শুরু করে, যার ফলে প্রস্রাবের সাথে রক্তক্ষরণের লক্ষণ দেখা দেয়। যখন কিডনির ফিল্টার নষ্ট হয়ে যায় তখন অ্যালবুমিন নামক একটি প্রোটিন প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে যায়, এতে আরও ফেনা বা বুদবুদ তৈরি হয়।

গোড়ালি, পা, পায়ের পাতা বা মুখ ফুলে যাওয়া

কিডনির আরেকটি কাজ হল শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল বের করা। কিডনিতে কোনো সমস্যা হলে এই অতিরিক্ত তরল বের করতে সমস্যা হয়। শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে গোড়ালি, পা, পায়ের পাতা, মুখ এবং হাত ফুলে যায়।

ক্লান্তি এবং অবসাদ

যখন কিডনির কর্মক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়, তখন রক্তে বর্জ্য পদার্থ হিসেবে টক্সিন তৈরি হয়। এটি আপনাকে দুর্বল এবং ক্লান্ত বোধ করে এবং কোন কিছুর উপর ফোকাস করা কঠিন করে তোলে। আরেকটি জটিলতা দেখা দিতে পারে, আর তা হলো রক্তাল্পতা। এছাড়া ঠান্ডা অনুভব করা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া (শ্বাসকষ্ট) ইত্যাদি কিডনির সমস্যার অন্যতম লক্ষণ।

চোখের চারপাশে ফুলে যাওয়া

যখন কিডনি খুব বেশি দুর্বল হয়ে যায়, তখন প্রস্রাবে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন নির্গত হয়, যার ফলে চোখের চারপাশে ফোলাভাব দেখা দেয়।

যদি মাংসপেশীর খিঁচুনি হয়

দুর্বল কিডনি ফাংশন শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা এবং পেশী খিঁচুনির দিকে নিয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের মাত্রা কমে গেলেও মাংসপেশির ক্র্যাম্পের সমস্যা দেখা দেয়।

লক্ষণগুলির মধ্যে বমি বমি ভাব, বমি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাস নিতে অসুবিধা, সব সময় ঠান্ডা অনুভব করা, মাথা ঘোরা, পিঠ এবং পায়ে ব্যথা হতে পারে। যদি আপনার উপরোক্ত উপসর্গগুলির মধ্যে কোনটি থাকে, তাহলে আপনার কিডনির সমস্যা নেই তা নিশ্চিত করার জন্য একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন এবং একটি সাধারণ প্রস্রাব পরীক্ষা (ACR) এবং রক্ত পরীক্ষা (eGFR) করুন।

রেফারেন্সঃ

kidney.org

risingbd.com

এই ওয়েবসাইটে আপনি পাবেন সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় বিভিন্ন ধরনের জানা ও অজানা সকল তথ্য। যে তথ্যগুলো আপনাকে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় অনেক ধরনের সাহায্য করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Previous Story

আপনি শীতকালে উষ্ণ গরম পানিতে গোসল করবেন কেন?

Next Story

বেশি পরিমানে খাবার খাওয়া শরীর মোটা হওয়ার কারণ নয়! জরিপ বলছে