যষ্টিমধু কি এবং কেন খাবেন? জেনে নিন এর কিছু উপকারিতা

যষ্টিমধু কি

অনেকের কাছে যষ্টিমধুর নাম চিরচেনা মধুর মতো মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবে তা নয়। যষ্টিমধু গাছের শিকড়, কিন্তু মধু না হলেও এর মধুর মতো বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে।

যষ্টিমধু শত শত বছর ধরে বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার ঘরোয়া প্রতিকার হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মূলের মধ্যে অনেক বায়োঅ্যাক্টিভ কম্পাউন্ড রয়েছে, কিন্তু সবচেয়ে সুপরিচিত উপাদান হল গ্লাইসিরাইজিক অ্যাসিড। যষ্টিমধু বিভিন্ন আকারে পাওয়া যায়, যেমন নির্যাস, গুঁড়ো এবং চা।

সুস্থ থাকার জন্য প্রাচীনকাল থেকেই অনেক ধরনের ভেষজ প্রতিকার ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই ধরনের চিকিৎসায় অসংখ্য উদ্ভিদ এবং ফল ব্যবহার করা হয়। যষ্টিমধু প্রাচীনকাল থেকেই পরিচিত একটি নাম। প্রাকৃতিক গুণাবলীর এই উপাদানটি এখানে আলোচনা করা হবে। আপনি এই লেখায় আপনার বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পাবেন। উদাহরণস্বরূপ, যষ্টিমধু কি, সুবিধা, অসুবিধা, কোথায় পাওয়া যায়, খাওয়ার নিয়ম, পাউডারের উপকারিতা, দাম ইত্যাদি। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

* যষ্টিমধু কি

এর ইংলিশ নাম Licorice. যা ইংলিশে লেখা হয় yashtimadhu বা josti modhu. ইউনানী নামঃ আছ্লু্স-সূস। অনেকেই ভুল করে যষ্টিমধুর নাম শুনেই মনে করি এটি মধুর মতই। আসলে এটি মূলত একটি গাছের শিকড়। তবে এটি মধুর চেয়ে কম পুষ্টিকর নয়। এটি হাজার হাজার বছর ধরে আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

* যষ্টিমধুর পুষ্টিগুন

প্রায় ১.৫ আউন্স কালো যষ্টিমধুতে ৩৩ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১৪০ ক্যালরি, ১ গ্রাম প্রোটিন, ১ গ্রাম চর্বি, ৬ গ্রাম চিনি এবং ১ গ্রাম ফাইবার রয়েছে।

* যষ্টিমধু খাওয়ার উপকারিতা

কফ, গলা ব্যাথা, বুকে জমে থাকা কফ সহ স্মৃতিশক্তি বাড়াতে এবং মুখের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য যষ্টিমধু একটি ভেষজ ঔষধ। অতএব, এর কিছু সুবিধা সম্পর্কে আলোচনা করা যাক-

* পেটের সমস্যা দূর করে

যষ্টিমধু অম্বল, পাকস্থলীর আলসার, কোলাইটিস, গ্যাস্ট্রাইটিস, পেটের ভেতরের স্তরের প্রদাহ এবং উপরের পরিপাকতন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগে ব্যবহৃত হয়, বলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রখ্যাত ডায়েটিশিয়ান জুলি আপটন। যষ্টিমধু একটি প্রশান্তিমূলক প্রদাহ বিরোধী, তাই এটি আলসারেটিভ কোলাইটিস বা অন্ত্রের প্রদাহ থেকে রক্ষা করতে পারে। এভিডেন্স-বেসড কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড আলসারেটিভ মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, পেটের আলসার নিরাময়ে ডিগ্লাইসিরাইজিনেটেড যুক্ত যষ্টিমধু কার্যকর।

* স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করে

যদি আপনি প্রায়শই স্ট্রেস বা মানসিক চাপে আচ্ছন্ন থাকেন তবে যষ্টিমধু সাহায্য করতে পারে। মেডিক্যাল জার্নাল মলিকিউলার অ্যান্ড সেলুলার এন্ডোক্রিনোলজির একটি প্রতিবেদন অনুসারে, এটি শরীরকে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলকে আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

* শ্বাস -প্রশ্বাসের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে

তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় (যেমন কাশি, গলা ব্যথা, হাঁপানি এবং ব্রঙ্কাইটিস) চিকিৎসার জন্য যষ্টিমধু ব্যবহার করা যেতে পারে, রেমেডিস ফর মি ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা রেবেকা পার্ক বলেন। ব্যাকটেরিয়া সৃষ্ট উপরের শ্বাস নালীর ইনফেকশন দূর করতে পারে যষ্টিমধু। এটি ফুসফুস থেকে শ্লেষ্মা অপসারণ করতে পারে এবং ব্রঙ্কিয়াল স্প্যাজম বা ব্রঙ্কিয়াল টিউবের মাংসপেশির সংকোচন শিথিল করতে পারে।

* রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

যষ্টিমধুতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। ফুড কেমিস্ট্রি জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, যষ্টিমধু শরীর থেকে ক্ষতিকারক ফ্রি র‌্যাডিকেল অপসারণ করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করে।

* ত্বককে সজীব করে

ডা. পার্ক বলেন, আপনি অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিকভাবে যষ্টিমধু যেভাবেই ব্যবহার করুন না কেন, এটি ত্বকের উপকার করে। তিনি আরও বলেন, ‘যষ্টিমধু ত্বকের একজিমা, সোরিয়াসিস, প্রদাহ, রোদে পোড়া, লালচে এবং পায়ের ছত্রাকের কারণে ক্রীড়াবিদদের পায়ের সমস্যা নিরাময়ে অবদান রাখে। ত্বকের ফোলাভাব এবং চুলকানি থেকে মুক্তি পেতে আপনি যষ্টিমধু নির্যাস থেকে প্রস্তুত সাময়িক দ্রবণ ব্যবহার করতে পারেন।

* অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে যষ্টিমধু

গ্লাইসিরাইজিন বিভিন্ন কঠিন রোগজীবাণুর বৃদ্ধি এবং প্রজননকে বাধা দেয়। যষ্টিমধু রোগ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক প্রতিরোধ করতে পারে। এতে শরীরে বিভিন্ন রোগ সহজে বাসা বাধতে পারেনা।

* দাঁতের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে

যষ্টিমধু একটি বহুমুখী ঔষধি যা আপনার দাঁত এবং মাড়ি সুস্থ রাখতে পারে। জার্নাল অফ ন্যাচারাল প্রোডাক্টস -এ প্রকাশিত গবেষণা অনুসারে, যষ্টিমধুতে দুটি কার্যকর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে যা দাঁতের ক্ষয় এবং মাড়ির রোগের সাথে জড়িত ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করতে পারে।

* যষ্টিমধু খাওয়ার নিয়ম

ফুটন্ত পানিতে যষ্টিমধু ভিজিয়ে এবং মধুর সাথে মিশিয়ে এটি পান করা যায়। এটি দুধের সাথেও পান করা যাবে। আবার আপনি চা এর সাথে যষ্টিমধু, দারুচিনি এবং আদা মিশিয়ে নিতে পারেন। আপনি চাইলে পরিমাণমতো যষ্টিমধু পাউডার খেতে পারেন।

* অতিরিক্ত যষ্টিমধু সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

যদিও যষ্টিমধু আপনার ডায়েটে একটি স্বাস্থ্যকর সংযোজন, তবে এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে ভালোর কিছু বিপরীত দিক থাকতে পারে। ডা. আপটন বলেন, “খুব বেশি যষ্টিমধু খেলে শরীরে পটাসিয়ামের মাত্রা বিপজ্জনক হতে পারে, যা হার্টের সমস্যা এবং পেশীর দুর্বলতা সৃষ্টি করতে পারে”। হার্টের সমস্যার জন্য ব্যবহৃত ওষুধ) যষ্টিমধু গ্রহণ করার সময় নেওয়া উচিত নয়, কারণ যষ্টিমধু এই স্বাস্থ্য সমস্যাগুলিকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে বা ঔষধের কার্যকারিতা কমাতে পারে। ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অনুসারে, পরপর দুই সপ্তাহ যদি দিনে দুই আউন্স কালো যষ্টিমধু সেবন করা হয় তাহলে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হতে পারে, তাই এই ভেষজটি একটানা সেবন করবেন না এবং একবারে দুই আউন্সের বেশি সেবন করবেন না।

রেফারেন্সঃ

risingbd.com

bangla.bdnews24.com

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Previous Story

ওমিপ্রাজল এর কার্যকারিতা এবং পার্শপ্রতিক্রিয়া কি কি?

Next Story

এসিডিটির জন্য এন্টাসিড কিভাবে কাজ করে এবং এর পার্শপ্রতিক্রিয়া কি?