এসিডিটির জন্য এন্টাসিড কিভাবে কাজ করে এবং এর পার্শপ্রতিক্রিয়া কি?

এন্টাসিড কিভাবে কাজ করে

পেটে ব্যথা হলে অনেকেই এন্টাসিড খায়, তাই না? এটি বেশিরভাগ সাধারন মানুষের জন্যই একটি খুব সাধারণ বিষয়। অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে কিনা তা না ভেবে বেশিরভাগ মানুষ এন্টাসিড গ্রহণ করে। এসিডিটির সমস্যা হলে এক বা দুইবার এন্টাসিড গ্রহণ করা যেতে পারে কিন্তু এটি নিয়মিত গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। এর কারণ হল এই মেডিসিন নিয়মিত সেবনে অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। আসুন জেনে নিই শরীরে এন্টাসিডের প্রতিক্রিয়ার ফলাফল।

এন্টাসিড কিভাবে কাজ করে

আমাদের পাকস্থলীতে খুব সহজেই এসিড জমা হয়, এর কারন হচ্ছে পিএইচ ৩ উপাদান। আপনি যে খাবার খান তা পেটের এই পিএইচ এর কারনে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং চর্বিতে রূপান্তরিত যায়। এই হজম উপযোগী উপাদানগুলি (প্রিডাইজেস্টেড) পাকস্থলীতে প্রবেশ করে তারপর অন্ত্রে যায়, যেখানে পিএইচ সামান্য ক্ষারীয়। এই পর্যায়ে পুষ্টি উপাদান রক্ত ​​এবং কোষে শোষিত হয়।

আপনি যদি এন্টাসিড গ্রহণ করেন তবে এটি পেটের অ্যাসিডকে নিরপেক্ষ করে এবং হজম প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে না। পেটে এসিড না থাকলে এটি হজমে হস্তক্ষেপ করে। এর ফলে অপরিপক্ক খাদ্য এবং বৃহত্তর কণা অন্ত্রের মধ্যে প্রবেশ করে এবং অন্ত্রের দেয়ালে গর্ত সৃষ্টি করে। এর ফলে খাদ্য কণার সঙ্গে রক্ত ​​মিশে যায় এবং অন্ত্র, আইবিএস বা অটোইমিউন রোগের সৃষ্টি হয়।

অতিরিক্ত এন্টাসিড গ্রহণ করলে যা হয়

যদি আপনি এসিডিটিতে ভুগেন এবং এন্টাসিড গ্রহণ করেন, তাহলে আপনাকে জানতে হবে যে, এই সমস্যা সমাধানের জন্য আপনাকে অনেক শক্তিশালী এবং অনেক বেশি এন্টাসিড গ্রহণ করতে হবে। এন্টাসিডে অ্যালুমিনিয়াম থাকে। তাই খুব বেশি এন্টাসিড গ্রহণ করলে অ্যালুমিনিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে এবং অ্যালুমিনিয়ামের অতিরিক্ত মাত্রা বিষাক্ততার কারণ হবে। আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে কারণ অতিরিক্ত অ্যালুমিনিয়াম কিডনির সমস্যা, অষ্টিওপোরোসিস এবং আলঝেইমার্স রোগ সৃষ্টি করতে পারে। এতে ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে যা কিডনিকে প্রভাবিত করে এবং ডায়রিয়ার কারণ হতে পারে। ডায়রিয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ের জন্য আপনাকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খেতে হবে, এতে আপনার ঔষধ গ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।

এন্টাসিড শরীরের আয়রনের শোষণকেও বাধা দেয়। ফলে শরীরে হিমোগ্লোবিন এবং ফেরিটিনের মাত্রা কমে যায়, তাই আয়রন সাপ্লিমেন্ট নিতে হয়। আয়রন সাপ্লিমেন্টের অতিরিক্ত গ্রহণ লিভারকে নিষ্ক্রিয় বা মন্থর করে দেয়। এটি ওজন হ্রাস করা কঠিন করে তোলে কারণ এটি শরীরের চর্বি কমায় না। এন্টাসিড দীর্ঘায়িত সেবনের ফলে লিভারে চর্বি জমে যায়।

কিভাবে এর সমাধান করা যেতে পারে

এই সমস্যা মোকাবেলার একমাত্র উপায় হল নিজের ইচ্ছামতো এন্টাসিড গ্রহণ না করা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। এছাড়াও জীবনযাত্রার পরিবর্তন যেমন- খাবার খুব ভালোভাবে চিবানো উচিত যাতে তা ভালোভাবে হজম হয়। খাবারের সাথে বা পরে খালি পেটে ফল খাবেন না, কারণ এটি আরও এসিডিক অবস্থার দিকে নিয়ে যেতে পারে। এছাড়াও, যখন আপনি চাপ অনুভব করেন তখন খাবেন না, কারণ এটি উচ্চ মাত্রার কর্টিসল নিঃসরণ করে, যা অনেক বেশি এসিডিক অবস্থা তৈরি করে। প্রচুর পানি পান করুন কিন্তু খাওয়ার সময় পানি পান করবেন না।

“এন্টাসিডের কিছু অজানা তথ্য”

এন্টাসিড আমরা প্রায়ই অম্বল প্রতিরোধের জন্য ব্যবহার করি। এন্টাসিড গ্রহণ সম্পর্কে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নেওয়া যাক

> এন্টাসিড তরল সিরাপ ট্যাবলেটের চেয়ে বেশি কার্যকর।

> খাবার খাওয়ার ১ ঘন্টার মধ্যে এন্টাসিড গ্রহণ করবেন না। এটি পাকস্থলীর এসিডকে প্রশমিত করবে এবং হজমে বাধা দেবে।

> এন্টাসিড খাওয়ার পর কখনোই অতিরিক্ত পানি পান করবেন না।

> বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এন্টাসিডে বিভিন্ন ধরনের উপাদান থাকে। ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত ব্র্যান্ডগুলি অনেকের জন্য ডায়রিয়ার কারণ হতে পারে। এবং ক্যালসিয়াম এবং অ্যালুমিনিয়ামের ব্র্যান্ডগুলি কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে। যদি কোনো বিশেষ ব্র্যান্ডের এন্টাসিড সেবনে সমস্যা হয়, তাহলে অন্য আরেকটি ব্র্যান্ড ব্যবহার করুন।

> গর্ভবতী মহিলারা প্রায়ই বুক জ্বালাপোড়ায় ভোগেন। এক্ষেত্রে নিয়মিত সোডিয়াম এন্টাসিড না নেওয়াই ভালো। ত্বকে পানি আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

> আপনি যদি এন্টাসিড সহ অন্যান্য ওষুধ গ্রহণ করেন, তাহলে ওষুধের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়। তাই এন্টাসিড নেওয়ার ১ ঘন্টা আগে বা ৪ ঘন্টা পরে অন্যান্য ওষুধ সেবন করুন।

> যদি আপনার কিডনি রোগ, হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপ থাকে, নিয়মিত এন্টাসিড খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

ওষুধের পরিমাণ:

Antacid Chewable tablet, 650 mg (এন্টাসিড চুষে খাওয়ার বড়ি, ৬৫০মি.গ্রা.)।
ওষুধটিতে ২৫০ মিলিগ্রাম অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইড এবং ৪০০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রক্সাইড রয়েছে।

যেসব লক্ষণ বা রোগে ব্যবহার করতে হবে:

(১) পেপটিক আলসার

(২) অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণ

(৩) গলা এবং বুক জ্বালাপোড়া

(৪) ক্ষুধা হ্রাস

(৫) টক ঢেকুর উঠা

সেবন মাত্রা:

দিনে ৩-৪ বার ১-২ টি বড়ি চুষুন (খাবারের আধ ঘন্টা আগে বা ১ ঘন্টা পরে)।

যেসব ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা যাবে না:

(১) পাতলা মল

(২) কোষ্ঠকাঠিন্য

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

(১) পাতলা মল

(২) কোষ্ঠকাঠিন্য

(৩) ক্ষুধা হ্রাস

সতর্কতা: বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন নেই। ওষুধের পরিমাণ একটু বেশি বা কম হলে কোনো সমস্যা নেই।

রেফারেন্সঃ

priyo.com

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Previous Story

যষ্টিমধু কি এবং কেন খাবেন? জেনে নিন এর কিছু উপকারিতা